দারুল ইকামার নিয়মাবলি

১ প্রত্যেক ছাত্রকে কতৃর্পক্ষের রুটিন অনুযায়ী চলতে হবে।
২ সবক ও তাকরারের সময় ছাড়া প্রত্যেক ছাত্র নিজ নিজ থেকে লেখা—পড়ায় মশগুল থাকবে।
৩. প্রয়োজনে তাকরার ও মুতালার সময় দারুল ইকামার বাইরে যেতে হলে দায়িত্বশীল উস্তাদকে অবশ্যই অবগত করবে।
৪. কোনো ছাত্র নাযেমে দারুল ইকামার অনুমতি ছাড়া বাইরে থাকতে পারবে না।
৫. কতৃর্পক্ষের অনুমতি ব্যতীত দারুল ইকামার বাইরের কাউকে থাকার সুযোগ দিতে পারবে না।
৬. প্রত্যেক ওয়াক্ত নামায মাদরাসার মসজিদে তাকবিরে উলার সাথে আদায় করবে।
৭. নিজ নিজ কামরা জামাতের ১০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। সুন্নত ঠিক মতো পড়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনে আরও আগে বের হবে।
৮. মাদরাসার পক্ষ থেকে কোনো মজলিসের ব্যবস্থা হলে সেই মজলিসে অবশ্যই উপস্থিত থাকবে।
৯. প্রত্যেকে নিজ নিজ কামরা ও আশ—পাশ, সিঁড়ি, বারান্দা পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন রাখবে।

জরুরী জ্ঞাতব্য

১. প্রত্যেক ছাত্র লেবাস—পোষাকে নিম্নোক্ত বিষয় লক্ষ রাখবে :
ক. জামা হাঁটুর নীচ পর্যন্ত হবে।
খ. জামা, সেলোয়ার বা লুঙ্গী টাখনুর ওপর পরতে হবে।
গ. গেঞ্জি ছবি ও লেখা বিহীন হাতা ওয়ালা হতে হবে।
ঘ. একছাটা পাঞ্জাবী, কাবলী, টাইট—ফিট ও চেক কাপড়ের জামা, প্রিন্টের লুঙ্গি পরিধান করা যাবে না।
২. আশে—পাশের দোকানে বা হোটেলে বসে আড্ডা দেওয়া, পত্রিকা পড়া, নাস্তা অথবা খাবার খাওয়া যাবে না।
৩. চোর বা অন্য কোনো অপরাধী চিহ্নিত করার জন্য নিজেরা কোনো ধরনের পরীক্ষা করতে পারবে না।
৪. হিফয ও মক্তব বিভাগের ছাত্ররা নিজ খরচের টাকা সংশ্লিষ্ট নেগরান উস্তাদের কাছে জমা রাখবে।
৫. কাউকে ঋণ দিতে হলে বা কারও কাছ থেকে ঋণ নিতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উস্তাদকে লেন—দেনের পূর্বে অবগত করবে।
৬. কোনো কাজের জন্য চাঁদা উঠানোর প্রয়োজন দেখা দিলে অবশ্যই কতৃর্পক্ষের অনুমতি নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নেগরানের পরামর্শে খরচ করতে হবে।
৭. মাদরাসার কোনো বিল্ডিংয়ের ছাদে হাঁটা—চলা করা যাবে না।
৮. নির্ধারিত স্থান ব্যতীত কাগজের টুকরা, ময়লা—আবর্জনা, পানি, থুথু ইত্যাদি ফেলা নিষেধ। হাউজ, অজুখানা, হাম্মামখানা অথবা তার আশে—পাশে ভাত, তরকারী, মাছের কাটা ইত্যাদি ফেলা নিষেধ। এইগুলো নির্দিষ্ট পাত্রে রাখতে হইবে।
৯. নির্ধারিত সময় (অর্থাৎ নাশতার সময়, ১২.১৫ মিনিট থেকে যোহরের পূর্ব পর্যন্ত, আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত) ব্যতিত অন্য সময় গেইটের বাইরে যেতে হলে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
১০. রাত ১০.৩০ মিনিটের ভেতর অবশ্যই বাতি নিভিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়তে হবে।
১১. রাতে প্রতি কামরার ডিম লাইট জে¦লে রাখতে হবে।
১২. বাইরে গিয়ে খেলা—ধূলা দেখা বা অংশ নেওয়া নিষেধ।
১৩. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোসল, নাশতা, খানা ইত্যাদি থেকে অবশ্যই ফারেগ হওয়া।
১৪. নাযেমে দারুল ইকামার অনুমতি ব্যতীত মসজিদে লেখা—পড়া অথবা তাকরারের জন্য না যাওয়া।
১৫. জুমার দিন আযানের পূর্বে নামাযের জন্য úূর্ণ প্রস্তুত হইয়া যাওয়া, ১২.১৫ মিনিটের পর আর হাম্মামে না থাকা। আযানের পর খানা খাওয়া, কামরা খোলা রাখা নিষিদ্ধ।
১৬. নামাযের পূর্বে কামরা থেকে বের হয়ে মাঠে জটলা বাঁধা, মসজিদে অথবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বা বসে পরস্পর কথা—বার্তা বলা, সামনের স্থান খালি রেখে পেছনে বসে থাকা অন্যায়।
১৭. দিনের বেলা যথাসময় দরজা—জানালা খোলা রাখা এবং অযথা লাইট জে¦লে না রাখা।


দরজায়ে আরাবিয়া ছাত্রদের জন্য ছুটি

১ নির্ধারিত ছুটি ব্যতীত ছাত্রদের ছুটি না নেওয়া বাঞ্চনীয়।
২. সবক চলাকালে কারও দুয়েক ঘণ্টার ছুটির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উস্তাদ থেকে লিখিত ছুটি গ্রহণ করবে।
৩. উল্লেখিত সময়ের চেয়ে অধিক সময়ের ছুটির প্রয়োজন হলে মুহতামিম সাহেব থেকে দরখাস্তের মাধ্যমে ছুটি গ্রহণ করবে।
৪. দরখাস্তে ছুটি গ্রহণের প্রকৃত কারণ স্পষ্টভাবে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
৫. ছুটির সময়সীমা অবশ্যই আরবী মাস অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
৬. ছুটির দরখাস্ত নির্দিষ্ট খাতায় শুদ্ধভাবে লিখতে হবে।
৭. যথাসম্ভব ছুটির তারিখ আরম্ভ হওয়ার একদিন পূর্বে দরখাস্ত দফতরে ইহতিমামে পেশ করতে হবে।
৮. বৃহস্পতিবার আসরের পর থেকে শুক্রবার মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নেগরান থেকে লিখিত ছুটি গ্রহণ করতে হবে।


হিফয বিভাগ ও মক্তব বিভাগের ছাত্রদের ছুটি

১. শুক্রবারের ছুটি এবং ক্লাশ চলাকালে ঘণ্টার ছুটি মৌখিক ভাবে সংশ্লিষ্ট উস্তাদ থেকে গ্রহণ করবে। এরচে বেশি সময়ের ছুটি নিতে হলে লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমে দায়িত্বশীল থেকে লিখিত ছুটি গ্রহণ করবে।
২. ঢাকা শহরের ছাত্ররা ১৫দিন পর বিশেষ প্রয়োজনে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আসর পর্যন্ত ছুটি নিয়ে বাসায় যেতে পারবে, তবে মাগরিবের পূর্বে অবশ্যই মাদরাসায় উপস্থিত হতে হবে।


ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিতির শাস্তি

১. ছুটি ব্যতীত সাত দিন বা ততোধিক দিন অনুপস্থিত থাকলে হাযিরা খাতা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে।
২. দরসে অনুপস্থিত থাকলে খানা বন্ধ অথবা যেকোনো উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে।
৩. দারুল ইকামার কানূন ভঙ্গ করলে অথবা অনুপস্থিত থাকলে সিট কাটাসহ যেকোনো শাস্তি বিধান করা হবে।

কিতাব বিভাগের ছাত্রদের নিযামুল আওকাত

সময় পালনীয় বিষয়
ফযরের পূর্বে আযানের পূর্বেই ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করা। আযানের পর জামাতের আগ পর্যন্ত তিলাওয়াত ও মুতালায় মগ্ন থাকা।
বাদ ফযর থেকে
গ্রীষ্মকালে ৭—০০টা
শীতকালে ৭—৩০ পর্যন্ত তিলাওয়াত ও নতুন সবক মুতালা।
গ্রীষ্মকালে ৭—০০টা থেকে ৭—৩০ পর্যন্ত
শীতকলে ৭—৩০ থেকে ৮—০০টা পর্যন্ত নাশতার জরুরত পুরা করা অতপর মুতালা করা।
৮—০০ থেকে ৯—০০টা পর্যন্ত গোসলের জরুরত থেকে ফারেগ হওয়া।
৯—০০ থেকে ১২—১৫ পর্যন্ত সবকের ইহতিমাম করা।
১২—১৫ থেকে যোহর পর্যন্ত খানা উঠানো, খাওয়া—দাওয়া থেকে ফারেগ হওয়া ও নামাযের প্রস্তুতি।
যোহরের পর থেকে আসর পর্যন্ত সবক অতপর নামাযের প্রস্তুতি।
বাদ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তাকরারের প্রস্তুতি, হাতের লেখা, আকাবিরের জীবনী মুতালা। প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাগরিবের পূর্বেই ফিরে আসা।
মগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত সূরা ওয়াকিয়ার আমল শেষে তাকরার।
বাদ ইশা আধা ঘণ্টার মধ্যে খাবার থেকে ফরেগ হয়ে তাকরার ও মুতালা। ১০—৩০ ঘটিকায় শুয়ে পড়া।
প্রতি বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার সকাল ৮—০০ ঘটিকা পর্যন্ত পেছনের পড়া, সপ্তাহিক তাকরার ও মুতালা।
প্রতি শুক্রবার
সকাল ৮—০০ ঘটিকা থেকে ২—৩০ পর্যন্ত নাশতা, কামরা পরিষ্কার করা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, বিশ্রাম, জুমআর নামায এবং খাওয়া—দাওয়া।
২—৩০ মিনিট থেকে আসর পর্যন্ত আকাবিরের জীবনী এবং পেছনের পড়া মুতালা।

মক্তব বিভাগের ছাত্রদের দৈনন্দিন রুটিন
সময় পালনীয় বিষয়
ফযর নামাযের পূর্বে আযানের পূর্বে ঘুম থেকে উঠে অযু করে কোরআন শরীফের সবক ইয়াদ ও তিলাওয়াত করা।

বাদ ফযর থেকে ৭—৩০ পর্যন্ত কোরআন শরীফের সবক ও তিলাওয়াত

৭—৩০ থেকে ৮—০০ পর্যন্ত নাশতা

৮—০০টা থেকে ৯—০০টা পর্যন্ত মুতালা ও হতের লেখা

৯—০০টা থেকে ৯—১৫ পর্যন্ত সবকের প্রস্তুতি

৯—১৫ থেকে ১২—১৫ পর্যন্ত নিয়মিত সবক

১২—১৫ থেকে ১—৩০ পর্যন্ত গোসল, খানা ও নামায

বাদ যোহর থেকে আসর পর্যন্ত নিয়মিত ছবক

বাদ আসর থেকে মাগরিবের ১৫ মিনিট আগ পর্যন্ত তাফরীহ্

বাদ মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত তাকরার ও সবক ইয়াদ

বাদ ইশা থেকে ৩০ মিনিট খানা খাওয়া

ইশার ৩০ মিনিট পর থেকে ১০—৩০ মিনিট পর্যন্ত সবক ইয়াদ ও মুতালা